পৃথিবীর কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের কাহিনী
অক্টোবর 18, 2009
আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত শব্দ মনে হয় “রসু খাঁ”।আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এক ভয়ংকার সিরিয়াল কিলার। এই নরপিশাচ গত ৩ বছরে ১১ জন নারীকে ধর্ষন ও হত্যা করেছে। আসুন জানি পৃথিবীর কয়েকজন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের সম্পর্কে।
১. জিল দ্যা রাই (Gilles de Rais)
জম্ম ১৪০৪ সালে ফ্রান্সে। তাকে বিবেচনা করা হয় আধুনিক সিরিয়াল কিলারদের পথিকৃত হিসাবে। রাই তার কিলিং মিশন শুরু করার পূর্বে ছিল মিলিটারী ক্যাপ্টেন বিখ্যাত জোয়ান অব আর্ক এর অধীনে। এই ভংয়কর সিরিয়াল কিলার শতাধিক ব্যাক্তিকে হত্যা করে যাদের অধিকাংশই শিশু। তার শিকারের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশুই ছিল ব্লন্ড চুল আর নীল চোখের অধিকারী (যেমনটি সে ছোটকালে ছিল দেখতে)। ধারনা করা হয় সে তার যৌন পূলক পেতে শিশুদের নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করত (শিকারের উপর মাস্টারবেশন করত)। তার শিকারের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যায় না। বেশীরভাগ শিকারকেই সে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলত। ধারনা করা হয় তার শিকার সংখ্যা ৮০ থেকে ২০০। অনেকের মতে এ সংখ্যা ৬০০-র উর্দ্ধে। তার অধিকাংশ শিকারের বয়স ছিল ৬ থেকে ১৮ এর মধ্যে। যদিও রাই বালকদেরই তার শিকার হিসেবে বেশী পছন্দ করত তবে বালিকারাও তার হাত থেকে নিস্তার পেতো না।
২. রির্চাড ট্রেটন সেচ (Richard Trenton Chase)

এই আমেরিকান সিরিয়াল কিলারের জম্ম ১৯৫০ সালে। হত্যাকান্ডের পর তাদের রক্তপান এবং শিকারের মাংস ভক্ষনের অভ্যাসের কারনে তার ডাক নাম ছিল ” ভ্যাম্পায়ার অব স্ক্রেরামেন্টো”। তার প্রথম শিকার ৫১বছর বয়সী ইন্জিনিয়ার এমব্রোস গ্রিফিন। সেচ গ্রিফিনকে হত্যা করেন ১৯৭৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তার ২য় শিকার টেরেসা ওয়ালিন ছিল অন্তসত্ত্বা। সে তাকে হত্যার পর তার সাথে সহবাসে মিলিত হয় এবং তার রক্ত দিয়ে গোসল করে। ১৯৮০ সালের ৮ মে বিচারে গ্যাস চেম্বারে তার মৃত্যুদন্ড হয়। দন্ডের জন্য অপেক্ষাকালীন সময়ে ১৯৮০ সালের ২৬ ডিসেম্বর তার সেলে তাকে মৃত অবস্থায পাওয়া যায়। ধারনা করা হয় প্রিজন ডাক্তারের প্রদত্ত ওষুধ অতিরিক্ত পরিমান খেয়ে সে আত্মহত্যা করে।
৩. জেফরি ডামার (Jeffrey Dahmer)

জম্ম ১৯৬০ সালে। ডামারের শিকার সংখ্যা কমপক্ষে ১৭। তার হত্যাকান্ডগুলো ছিল সত্যিকার অর্থেই বিভীষিকাময়। ডামার শিকারকে জোর পূর্বক সমকামিতায় বাধ্য করা সহ তাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ বিচ্ছিন্নকরন এবং শিকারের মাংস ভক্ষণ করত। ডামার ১৮ বছর বয়সে তার প্রথম হত্যাকান্ড ঘটায়। ১৯৮৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১৩ বছর বয়সী একজন বালককে যৌন হয়রানির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারে তার এক বছর সাজা হয়, সে বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে এবং তাকে মেন্টাল থেরাপি দেয়ার অনুরোধ করে। ৫বছর সন্তোষজনক আচার আচরনের শর্তে তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তির পরপরই সে পুনরায় হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে।১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ডামার পুনরায় পুলিশের নিকট ধরা পড়লে তার ভয়ানক কুর্কীতিগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ে। বিচারে ডামারের ৯৩৭ বছর জেল হয়। বিচারকালে ডামার কারাবাসের পরিবর্তে তার মৃত্যুদন্ড কামনা করে।১৯৯৪ সালের ২৮ নভেম্বর কারাগারের জিমে কর্মরত অবস্থায় ক্রিস্টোফার স্কেভার নামক অপর একজন কয়েদীর মারাত্মক পিটুনিতে নিহত হন ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার জেফরি ডামার।
৪. আন্দ্রেই চিকাতিলো (Andrei Chikatilo)

